বিপদে মিমি চক্রবর্তী

চুলের বিজ্ঞাপনে নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয় ব্যবহার করে বড়সড় বিতর্কে পড়েছেন সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী। এমনভাবে বিজ্ঞাপনে কাজ করায় ভারতীয় এই অভিনেত্রীকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই ব্র্যান্ডের নারকেল তেলের বিজ্ঞাপনে মিমি চক্রবর্তী অনেক দিন ধরেই কাজ করেন। সেলেব্রিটি হিসেবেই ওই ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার করতেন তিনি। কিন্তু ওই সংস্থা সম্প্রতি নতুন বিজ্ঞাপন বাজারে এনেছে। তাতে মিমি নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয় তুলে ধরেন। এতেই বাধে বিপত্তি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয়কে ব্যবহার করেছেন কোনও সংসদ সদস্য এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলে দাবি করছেন অন্যান্য দলের সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন সংসদ সদস্যরা। ফলে যাদবপুরের তৃণমূল মিমিকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বলেন, কোনও সংসদ সদস্য এটা করতে পারেন না। ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে কেউ এইভাবে পয়সা রোজগার করতে পারেন না। তবে ‘অফিস অব প্রফিট’ আইনের আওতায় এই বিষয়টা পড়ছে না বলে তার মত।

কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টেরই আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ৮(এ) ধারা অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপের জন্য সংসদ সদস্য বা বিধায়কের পদ খারিজ করা যায়। তার ব্যাখ্যা, একটি বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি বেসরকারি ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার করার জন্য নিজের ‘জনপ্রতিনিধি’ পরিচয়কে ব্যবহার করে ওই সংসদ সদস্য অনৈতিক কাজ করেছেন।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর কথায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন না।
তবে মিমি বলেছেন, তিনি এই নিয়ম জানতেন না। তাকে বিজ্ঞাপনে যা পড়তে বলা হয়েছিল, তাই পড়েছেন।

যে বিজ্ঞাপন নিয়ে এত বিতর্ক, তাতে দেখা গিয়েছে- একটি আয়নার সামনে বসে চুল বাঁধছেন মিমি। পিছন থেকে হেঁটে আসছেন বিদ্যা বালান। মিমিকে তিনি প্রশ্ন করছেন, ‘এখনও চুল নিয়ে পড়ে?’ জবাবে মিমি বলছেন, ‘আমি এখন জনপ্রতিনিধি। তাই তার যোগ্য হেয়ারস্টাইল।’

Related Post