অবশেষে ত্রিশালের বিতর্কিত ইউএনও জাকির বদলী ॥ জনমনে স্বস্তি ॥

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে বিতর্কিত ইউএনও’র বদলীর সংবাদে ত্রিশাল উপজেলায় জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে। ১৫ জুলাই ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির ত্রিশাল থেকে গফরগাঁও উপজেলায় বদলী হতে যাচ্ছেন।

আর গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুব উর রহমান তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয় সংস্থাপন শাখার এক আদেশে এই বদলী আদেশ জারি করা হয়।
কিন্তু ত্রিশাল ইউএনও জাকির বদলী ঠেকাতে কলকাঠি নাড়লেও তার সব অপচেষ্টা কাজে লাগেনি।

সুত্র জানায়, একটি স্কুলের কিছু ছাত্রদের সড়কে নামিয়ে ইউএনও জাকিরের বদলী আদেশ প্রত্যাহারে মানববন্ধন করানো হয়। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে পুলিশ মহাসড়ক থেকে মানববন্ধনকারীদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ত্রিশালে জনমনে বিতর্কিত সৃষ্টি হয়। সেই সাথে ত্রিশালে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ইউএনও জাকির বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ ব্যাপক অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অন্য দিকে ২নং বৈলর ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন এর চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ইউএনও বদলী ও শাস্তির দাবী জানান।

অভিযোগপত্রে ত্রিশালের ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল জাকির এর অপকর্ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানানো হয়।
অভিযোগে দাবী করা হয়, পদোন্নতি পেয়ে বছর দেড়েক আগে ত্রিশালে যোগদান করেন ইউএনও জাকির। তার স্ত্রী একই জেলায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও।
এক্ষেত্রে তার স্ত্রীর কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত জীপ গাড়ির জ্বালানি তেল ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার বলে অভিযোগে প্রকাশ। অন্য দিকে রাজনৈতিক মহলে ও ইউএনও জাকিরের কর্মকান্ড নিয়ে অসন্তোষের কথা জানা যায়। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে রায়পুর ইউনিয়নে জামাত বিএনপির লোকজনকে এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়। নৌকার প্রার্থীর বিরোধীতা করায় এই ঘটনা নিয়ে উপজেলায় বিতর্কের মুখে পড়ে সমালোচিত হতে হয় ইউএনও জাকিরকে।

বদলী ঠেকাতে ব্যর্থ ইউএনও জাকির শেষ চেষ্টা করেও পার পেলেন না। বরং একগুচ্ছ অভিযোগ মাথায় নিয়ে তাকে ত্রিশাল থেকে বদলী হতে হচ্ছে। এতে জনমনে সন্তোষ ও স্বস্তি ফিরেছে। ত্রিশাল ইউএনও হিসাবে যোগদান করেই তিনি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল আলমের সাথে আতাত করেন যা উপজেলাব্যাপী সমালোচিত হয়।

ত্রিশাল নজরুল একাডেমির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অপবাদে মামলা দিয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের ভাইকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হলে ইউএনও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। উপজেলা পরিষদে শত শত সোলার বিক্রির অভিযোগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে বাসস্থান তৈরিতে কোটি টাকা আত্মসাৎ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে তীর উঠে তার বিরুদ্ধে। ত্রিশালে ইউএনও পদে যোগ দিয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনের ৩য় তলায় পরিষদ কক্ষ এর আধুনিকায়ন এর নামে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল এডিপি থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

এক্ষেত্রে কোন টেন্ডার দেয়া হয়নি। পছন্দ মাফিক ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হয়। যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আদলে পরিষদ কক্ষ সাজাতে গিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েন বিদায়ী ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির।

Related Post