কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টারকে নিয়ে বির্তক ॥ অপসারণ দাবি

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) এর অভ্যন্তর ফের অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার হুমায়ূন কবীরও বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন।
আওয়ামী বিরোধী ও জামাত-বিএনপিপন্থীদের যোগ সাজসে বিশ^বিদ্যালয়ে চলছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অব্যাহতভাবে নিয়োগ বাণিজ্য।

কথিত রয়েছে ভিসি ও রেজিষ্টার জামাতপন্থী রাজাকারের সন্তান তারা দুজনে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিবির ও জামাত নেতাপ্রার্থীদেরকে নিয়োগ দেওয়ায় বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। সম্প্রতি এক অভিযোগে ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টারের অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকান্ড, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি সহ ব্যাপক অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভিসির নারীর কেলেংকারী ঘঠিত মুখরোচক জল্পনা কল্পনা ও চরম পর্যায়ে রয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিতর্কিত ভিসি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টারের অপসারণ দাবি করা হয়। যদিও অভিযুক্ত মহল অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন।
এদিকে, অভিযোগ সূত্রে ভাইস চ্যান্সেলরের বিভিন্ন অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ভিসি দৃশ্যমান কোন কাজ এখনো না করেই কেবল ফাঁকা আওয়াজ করে চলেছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে না ভোগান্তির । বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মহল ভিসির অন্তঃসারশূণ্য চাপাবাজির প্রসঙ্গ তুলে ভিসির দিকে সমালোচনার তোপ দেগেছেন। সমালোচকদের আশংকা ভিসির দক্ষতা ও যোগ্যতা নিযে সংশয়ের কারণ উদ্ভব হয়েছে -কেননা তার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নাজুক পরিস্থিতি চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতাদের নামফলকে যুদ্ধাপরাধীর নাম শ্বেত পাথরে খোদাই করায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিসহ সাধারণ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিসি কি করে যুদ্ধাপরাধীর নাম নামফলকে উল্লেখ করলেন এ প্রশ্নে তুমুল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানায়, একাধিক ভূয়া ব্যাক্তির নামও এই তালিকায় উঠেছে। যার পেছনে রয়েছে রহস্য। অথচ এখানে মুক্তিযোদ্ধার কোন কোটা রাখা হয়নি।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সমর্থকদের অবমূল্যায়ন করে বিএনপি-জামায়াত- শিবির পন্থীদের প্রাধান্য দেয়ায় ভিসি রাজনৈতিকভাবেও বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। তার পিএস পদে কর্মরত হাফিজ শিবিরের ক্যাডার ছিলেন। সূত্রমতে ২০ লাখ টাকার বদৌলতে রেজিষ্টার পদে আমিনুলকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে আমিনুলের সাথে তার বনিবনা নেই।

বিএনপি আমলের ভিসি শামসুর রহমান ভাগ্নে ভাউচার জাহিদ ও শিবির সবুজ বর্তমানে ভিসির ঘনিষ্ট বলে প্রচারিত। স্বজন প্রীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারী করানো হচ্ছে। নিজ ছেলে ও শ্যালককে দিয়ে নিয়োগ বানিজ্য ও ঠিকাদারী বাণিজ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভিসির বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইনার ও আর্কিট্যাক্ট কোম্পানী হিসোবে লিয়াজো অফিসের ডিজাইন কাজে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। জামায়াত পন্থী এডিডি নজরুল, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার হুমায়ূন প্রমুখ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে।
লিয়াজো অফিসের ডিজাইনে অতিরিক্ত বিল করায় তদন্তে তা ধরা পড়ায় কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রকিব এর পিতা এবং পরিবার কট্টর বিএনপিপন্থী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্গের মধ্যে থেকে মুখ খোলার সাহস পায় না। বিশ^বিদ্যালয়ের সেশনজট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বিশ^বিদ্যালয়ের সকল প্রকার ঠিকাদারী কাজ ও নিয়োগে ভিসির ঘনিষ্ঠ মহল রাজাকার পুত্র হুমায়ুন বিএনপিরপন্থী নজরুল ও ইলাহী এবং শ্যালক-ছেলেকে কমিশন দিতে হয়। এ অভিযোগ ইতোমধ্যে দূর্নীতিদমন কমিশন এর তদন্তাধীন রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আলোচিত দূর্নীতিবাজ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার হুমায়ুন এর নামে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে গাড়ী ব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাতিজা পরিচয়, প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙ্গানো, অবৈধ পিএইচডি ডিগ্রি ইত্যাদি কারণে বিতর্কিত হুমায়ুন ময়মনসিংহ ত্রিশাল কিশোরগঞ্জে বিপুল জমিজমা সস্পদের মালিক হয়েছেন যা বিস্ময়কর সেই সাথে রয়েছে। ব্যক্তিগত দূর্নীতি ও নারী ঘটিত নানা অপকর্মের অভিযোগ।
জাককানইবি এর উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার এর বিএনপি জামাত শিবির ঘনিষ্ঠতা ও আওয়ামী বিদ্বেশ, ঘুষ দূর্নীতি, অনিয়ম অব্যবস্থপনা, স্বজনপ্রীতি চরমে উঠেছে।

Related Post