শব্দদূষণের যন্ত্রণাকে ‘স্বস্তিতে’ পরিণত

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কথা বলি। কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায় ‘শব্দদূষণ’। আমরা বাধ্য হয়ে অনেকটা এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি।

কিন্তু শব্দদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য কম হুমকির নয়। এটি মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত, হৃদরােগ, কাজের মানের অবনতি, স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার সমস্যা, এমনকি শ্রবণশক্তি পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে।

‘শব্দসন্ত্রাস’ নেই এমন বাসস্থানের কথা মানুষ কল্পনা করলেও বাস্তবে তা পাওয়া কঠিন। এ কারণে গবেষকেরা অদ্ভুত সব কৌশল উদ্ভাবন করার চেষ্টা করছেন, কীভাবে শব্দদূষণের যন্ত্রণাকে ‘স্বস্তিতে’ পরিণত করা যায়।

যেখানে শহুরে কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানে যানবাহনের শব্দকে কি সুমধুর করে তোলা সম্ভব? অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির গবেষক জর্ডান ল্যাসি এমনটাই করেছেন।

তিনি শব্দ বদলের একটি অভিনব সরঞ্জাম তৈরি করেছেন। একটি পার্কের পাশের রাস্তার কোলাহল, যানবাহনের তীব্র আওয়াজ মাইক্রোফোনে রেকর্ড করে তার সঙ্গে মিশিয়েছেন সংগীতের মূর্চ্ছনা।

তারপর সেই সুরেলা শব্দ তিনি লাউড স্পিকারের মাধ্যমে পার্ক এলাকায় বাজাচ্ছেন। ফলে আশপাশের মানুষ কানে আঙুল দিয়ে বিরক্তি প্রকাশের চেয়ে এখন কান খাড়া করে সেই ‘মধুর’ আওয়াজ শুনছে!

পাশের বাড়িঘরে আগে যারা শব্দের অত্যাচারে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখত, তারা এখন বারান্দায় বসছে সেই শব্দ শোনার জন্য!

ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার গবেষকেরাও বিশেষ আকারের জানালা তৈরি করেছেন, যা চারপাশ থেকে আসা শব্দকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরবে এবং বাড়ির মালিক তার ঘরের ভেতর নিজের পছন্দের সংগীতের সঙ্গে মিশিয়ে একটা নতুন শব্দরাজ্য তৈরি করতে পারবে।

ফলে বাড়ির পাশে রেল কিংবা বাসস্টেশন, এয়ারপোর্ট কিংবা লাখো মানুষের বেড়ানোর পার্কও যদি থাকে, তবু আর ঘরের জানালা বন্ধ করতে হবে না! স্থপতিরা আগামী দিনের শহরগুলো পরিকল্পনা করছেন এমনভাবে, যাতে একটা শান্ত ও প্রাকৃতিক শব্দ-সংবলিত শহর গড়ে তোলা যায়।

Related Post